আপনার অবহেলা যেন শিশুর কষ্টের কারণ না হয়; হামমুক্ত শৈশব নিশ্চিত করতে আজই সচেতন হোন।

♦️ভাইরাস সংক্রমণ
হাম হওয়ার একমাত্র কারণ হলো হাম ভাইরাস (Measles virus)। এটি রোগীর নাক এবং গলার মিউকাসে অবস্থান করে।

♦️যেভাবে এটি ছড়ায় (সংক্রমণের পথ):
বাতাসের মাধ্যমে: আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কাশি বা হাঁচি দেয়, তখন ক্ষুদ্র জলকণা বা ড্রপলেট বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। সুস্থ কেউ সেই বাতাস নিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে সেও আক্রান্ত হতে পারে।

সরাসরি সংস্পর্শ: আক্রান্ত ব্যক্তির লালা, নাকের পানি বা ব্যবহৃত রুমাল/জিনিসপত্রের সংস্পর্শে এলে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

ভাইরাসের স্থায়িত্ব: এই ভাইরাসটি বাতাসে বা কোনো বস্তুর ওপর প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে।

♦️কাদের হওয়ার ঝুঁকি বেশি?
যাদের হামের টিকা (MR/MMR Vaccine) নেওয়া নেই।

যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) কম।

শরীরে ভিটামিন-এ (Vitamin A) এর প্রচণ্ড অভাব থাকলে হামের ঝুঁকি এবং জটিলতা দুই-ই বেড়ে যায়।
কিভাবে প্রতিকার করা যায়?

♦️ টিকা গ্রহণ (সবচেয়ে কার্যকর উপায়)
হাম আটকানোর একমাত্র শক্তিশালী হাতিয়ার হলো MR (Measles-Rubella) বা MMR টিকা।

♦️ভিটামিন-এ (Vitamin A) নিশ্চিত করা
শরীরে ভিটামিন-এ এর অভাব থাকলে হামের সংক্রমণ ও জটিলতা বেড়ে যায়। শিশুদের নিয়মিত ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো এবং রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল দেওয়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ ভাইরাস দমনে শরীরকে সাহায্য করে।

♦️ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরত্ব (Isolate)
হাম খুব দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই:
আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্তত ৪-৫ দিন আলাদা ঘরে রাখা উচিত (র‍্যাশ বা দানা ওঠার পর থেকে)।
রোগীর ব্যবহৃত গামছা, রুমাল বা বিছানা অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না।

♦️ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা
নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করা।
হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ও নাক রুমাল বা টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখা।

জনাকীর্ণ বা ভিড়যুক্ত স্থানে যাওয়া এড়িয়ে চলা, বিশেষ করে যদি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব থাকে।

কেন হামের প্রভাব বেশি দেখা যায়?
অসচেতনতা ও অবহেলা
অনেকে হামকে সাধারণ জ্বর বা অ্যালার্জি ভেবে অবহেলা করেন এবং রোগীকে আলাদা (Isolate) রাখেন না। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে পরিবার বা আশেপাশের মানুষের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও জনাকীর্ণ পরিবেশ আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় ভাইরাসের সক্রিয়তা বেড়ে যায়।
#হাম #মেডিঅরা #চট্টগ্রাম #হেলথটিপস